রমযান মাসে কোন হারাম টাকা না খাওয়ার সংকল্প করা


[লিখেছেন jibaitunnoor, November 15, 2020 05:37 am ]

প্রশ্ন:

আমি ঠিক করেছিলাম রমযান মাসে ব্যাংকের কোনও টাকা খাব না। অন্তত রমযান মাস (পারলে ১২মাস) অন্য কোনওভাবে হালাল খাব। যাতে আমার ইবাদাত কবুল হয়। আমার মা বাবা আমাকে বিয়ের আগে যে টাকা দিত, সেখানে আমার কিছু জমানো টাকা ছিল। আমি পুরো মাসে আমার খাওয়ার খরচ বাবদ, ৪০০০/- মত আমার শশুরকে দিয়েছিলাম। আর নিয়ত করেছিলাম, আমি যা খাচ্ছি তা ঐ ৪০০০ টাকা থেকে খাচ্ছি;

যদিও তা আমার স্বামীর পরিবারের অন্য হারাম টাকা (যেমন: আমার স্বামীর টাকা, আমার শশুরের ব্যাংকের বেতনের টাকা) এর সাথে যোগ হয়ে এক সাথে বাজার হয়েছে। এভাবে আমার খাওয়াটা কি হালাল হয়েছে? একটা ফ্যামিলিতে নিজে একা একা রান্না করে আলাদা খাওয়া আসলে সম্ভব না। তাই ওদের কাছে টাকা দেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না।

আমার শশুর ব্যাংকে চাকুরী করতো। এ ছাড়া তার অন্য কোন আয় ছিল না। পেনশনের সেসব টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন। আমার ধারনা, তিনি ব্যাংক থেকে সুদ নেন। ঐ সুদের টাকা দিয়ে তিনি সংসারের বাজার করেনি আমরা যৌথ ফ্যামিলি। বাজার খরচ আমার স্বামী এবং আমার শশুর দেয়। আমার স্বামীর টাকা যদি আমার জন্য হালালও হয় তবুও আমি শুধুমাত্র আমার স্বামীর টাকা খেতে পারছিনা। কারণ, বাজার খরচে আমার শশুরের টাকা মিশ্র। এখন আমি কি করবো? খাওয়ার সময় আমার স্বামীর টাকা খাচ্ছি, এ নিয়ত করে খেলে কি হালাল হবে? কারণ, রমযানের মতো প্রতি মাসে আমার নিজের টাকা দিয়ে খাওয়া সম্ভব না।

উত্তর:

আপনার প্রদত্ত হালাল টাকা যদি অন্যান্য হারাম টাকার সাথে মিলিয়ে তা দিয়ে বাজার করা হয়, তাহলে ধরা হবে যে, আপনি আপনার প্রদত্ত হালাল টাকার খাবার খেয়েছেন। আর যদি আপনার হালাল টাকা হারাম টাকার সাথে না মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে বাজার করা হয়। অর্থাৎ কোন দিন আপনার টাকা দিয়ে বাজার করা হয়, আবার অন্য কোন দিন আপনার স্বামীর বা শশুরের হারাম টাকা দিয়ে বাজার করা হয়, তাহলে যেই দিন তাদের হারাম টাকা দিয়ে বাজার করা হবে সেই দিন ধরা হবে যে, আপনি আপনার প্রদত্ত হালাল টাকার খাবার খাননি, বরং হারাম টাকার খাবার খেয়েছেন। তবে এর জন্য আপনি গুনাহগার হবেন না; বরং এর গুনাহ আপনার স্বামীর উপর বর্তাবে।

এছাড়া, রমযান মাস ব্যতীত অন্যান্য সময় যদি আপনার শশুরের হারাম টাকা দিয়ে পরিবারের বাজার খরচ চালানো হয়, আর আপনি যৌথ ফ্যামিলির একজন সদস্য হিসাবে সেই খাবার খান, তাহলে সেটাও তো আপনার স্বামীর দায়িত্বে থাকা আপনার পাওনা খাবারই খাচ্ছেন।

কাজেই, সে সময় ও আপনি আপনার স্বামীর টাকার খাবার খাচ্ছেন বলে ধরা হবে। তাই এর জন্য আপনি দায়ী থাকবেন না। কারণ, আপনার বক্তব্য অনুযায়ী আপনার বিকল্প কোন হালাল খাবারের ব্যবস্থা নেই। আর এমন ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য স্বামীর হারাম টাকার খাবার খাওয়া জায়েয।

সূত্র:

রদ্দুল মুহতার: ৩/২১৭, ফিকহুল বুয়ূ: ২/১০৩৫, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৮৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/১৪৮, ফিক্বহী মাক্বালাত: ১/২৬৩
في رد المحتار: ৫/৯৯: امرأة زوجها في أرض الجور إن أكلت من طعامه ولم يكن عين ذلك الطعام غصبا فهى سعة من أكله وكذا لو اشترى طعاما أو كسرة من مال أصله ليس بطيب فهى في سعة من تناوله والا ثم على الزوج.