ডি. এন. এ. টেস্টের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গ্রহণযোগ্য হবে কি না?


[লিখেছেন jibaitunnoor, January 25, 2021 05:30 am ]

প্রশ্ন:

আমরা জানি, যিনার শাস্তি প্রয়োগের জন্য কমপক্ষে চার জন সাক্ষী প্রয়োজন। এখন যদি কোন মেয়ে নিজে ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ করে আর তার পক্ষে চার জন সাক্ষী আনা সম্ভব না হয়। (কারণ, এই ধরণের কাজ সাধারণত গোপনে হয়ে থাকে।) কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তিতে এমন মেশিন আছে যে, “ডি. এন. এ.” টেষ্টের মাধ্যমে ধর্ষকের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় “ডি. এন. এ.” টেষ্টের মাধ্যমে যে ধর্ষণ প্রমাণিত হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না? না হলে মেয়েটি কিভাবে বিচার পেতে পারে?

উত্তর:

কারো উপর যিনার শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ হওয়ার জন্য শর্ত হল, চার জন ন্যায়পরায়ন পুরুষ সাক্ষী কর্তৃক সুস্পষ্ট ভাবে যিনা প্রত্যক্ষ করার সাক্ষ্য দেওয়া এবং শরঈ আদালতে বা পঞ্চায়েতে তা প্রমাণিত হওয়া। সুতরাং যদি চার জন সাক্ষী না পাওয়া যায় বা শরঈ আদালত বা পঞ্চায়েত না থাকে তবে যিনা সাব্যস্ত হবে না। এবং যিনার শরঈ শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না। যদিও তা ডি এন এ টেষ্ট দ্বারা প্রমাণিত হোক না কেন? কারণ, যিনা প্রমাণের ক্ষেত্রে শরীয়তে সন্দেহ বা ধারণার কোন ধর্তব্য নেই; বরং পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে তা প্রমাণিত হতে হবে। অথচ ডি এন এ টেষ্টের মাধ্যমে ঐ নিশ্চয়তা অর্জিত হয় না। বড় জোড় প্রবল ধারণা জন্মাতে পারে।

কারণ, খোদ টেষ্ট কারীর ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়ও টেষ্টের ক্ষেত্রে কোন ভুল হয়ে যেতে পারে। আর পূর্বেই বলা হয়েছে যে, নিশ্চিত ভাবে যিনা প্রমাণিত না করে শুধু ধারণা বা সন্দেহের ভিত্তিতে যিনার শাস্তি প্রয়োগ করা যায় না। অনুরূপ ভাবে, আমাদের দেশে যেহেতু বর্তমানে শরঈ আদালত বা পঞ্চায়েত নেই তাই যিনার শরঈ শাস্তি প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই।

সুতরাং কোন মহিলা যদি কারো দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার দাবী করে এবং তার বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে কিন্তু উল্লেখিত পন্থায় তা প্রমাণ করতে না পারে তবে তার সে দাবী গ্রহণযোগ্য হবে না। যদিও ডি এন এ টেষ্ট দ্বারা উহা প্রমাণ করা হোক না কেন?

অবশ্য, ঐ মহিলা বিচার পেতে চাইলে প্রচলিত আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে। বিচারক সাক্ষী প্রমাণ বা ডি এন এ টেষ্টের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শরঈ দন্ডের কম যে কোন শাস্তি প্রদান করতে পারে।

সূত্র: সূরা নুর: ১৩ সূরা নিসা: ১৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭/৪০৩, ফাতহুল কাদীর: ৫/৫০৯, আল বাহরুর রায়েক: ৫/৭, ইমদাদুল আহকাম: ৪/১১৮, জাদীদ ফিকহী মাবাহিছ: ২০/২৯৩
قوله تعالى: والتي ياتين الفاحشة من نسائكم فاستشهدوا عليهن اربعة منكم [وسورة النساء: ১৫]
وفي مصنف عند الرزاق ৭/৪০৩ عن الراهيم ان عمر بن الخطاب قال: ادروا الحدود ما استشطعتم ـ وفي امداد الأحكام ৪/১১৮ محض عورت كے كہنے سے مرد پر سياست وتعزير نہيں ہو سكتي ـ وفي جديد فقہي مباحث: ২০/২৯৩ دي ـ اين ـ ائے ٹست ميں شبہات بہت ہيں، جبكہ شہادت ادنى شبہ كي بنياد پر رد كر دي جاتي ہے