খোদায়ী ষাড় থানা/আদালতের অনুমতিতে খাওয়া


[লিখেছেন jibaitunnoor, February 4, 2021 12:49 pm ]

প্রশ্ন:

আমাদের দেশের এক শ্রেণীর লোক রয়েছে, যারা বিপদ-আপদ/কঠিন কোন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ষাড়/গরু মান্নত করে। আল্লাহ তা‘আলা মুক্তি দিলে পরে একটি ষাড়/গরু নিয়ে লোহার কোন বস্তু গরম করে গরুটির পিঠে/শরীরের কোন অংশে দাগকেটে ছেড়ে দেয়। এটি ‘খোদায়ী ষাড়’ নামে প্রসিদ্ধ। জানার বিষয় হল এ জাতীয় ষাড় গরু থানা/আদলতের অনুমতি নিয়ে খাওয়া জায়েয কি না? থাকলে এর নিয়ম কানুনগুলো কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর: 

আল্লাহর নামে কোন কিছুর মান্নত করলে তা পূর্ণ করা আবশ্যক হয়ে যায়। তবে মান্নত সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল এমন ইবাদতে মাকসূদা তথা উদ্দিষ্ট ইবাদতের মান্নত করা, যা কখনো ফরজ বা ওয়াজিব হয়। যেমন- নামায, রোযা, সদকা ইত্যাদি। ইবাদতে মাকসূদা ছাড়া অন্য কোন কিছুর মান্নত করলে মান্নত সহীহ হয় না।

ষাড় গরু বা অন্য কোন পশু আল্লাহর নামে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া কোন ইবাদত নয়; বরং এটি বিদ‘আত। তাই এই মান্নত শুদ্ধই হয় না। আর যেহেতু মান্নত শুদ্ধ হয় না, তাই এই খোদায়ী ষাড়ের মাঝে মান্নতকারীর মালিকানা যথারীতি বিদ্যমান থাকে। সুতরাং তার সম্মতি ছাড়া কথিত ঐ ‘খোদয়ী ষাড়’ যবাই করে খাওয়া জায়েয নেই। যদিও তা আদালতের অনুমতি নিয়ে করা হয়। কেননা, অন্যের মালিকানায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই। তবে মান্নতকারী ব্যক্তি চাইলে উক্ত গরুটি গরীব মিসকীনদেরকে পুনরায় সদকা করে খাওয়াতে পারে।

উল্লেখ্য, গরু-ছাগল ইত্যাদি মান্নতের সঠিক নিয়ম হল, বিপদ-আপদ বা কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেলে এগুলো গরীবদেরকে দান করার মান্নত করা। এক্ষেত্রে বিপদ আপদ বা কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেলে উক্ত মান্নত পূর্ণ করা জরুরী হবে। আর তা একটি ইবাদত বলেও গণ্য হবে।

সূত্র: সূরা হজ্ব: ২৯, সূরা বাকারাহ: ১৮৮, সুনানে নাসায়ী: ১২৭, সুনানে তিরমিযী: ১/২৭৯, ফাতাওয়া সিরাজিয়াহ: ৫৮, আদ দুররুল মুখতার: ৩/৭৩৫, রদ্দুল মুহতার: ৩/৭৩৫, বাদায়িয়ুস সানায়ে: ৪/২২৮, আল বাহরুর রায়েক: ২/৫১৪, আপকে মাসায়েল: ৩/৪৭৯
في سورة الحج ২৯: وليوفوا نذورهم … الخ وفي سورة البقرة ১৮৮: ولا تأكلوا أموالكم بينكم بالباطل الخ وفي صحيح البخارى ৬৬৯৬: عن عائشة قالت سمعت رسول الله صـ يقول من نذر أن يطيع الله فليطعه ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصه.