এই শর্তে কোন জিনিস বিক্রি করা যে, পরবর্তীতে আবার তারই নিকট বিক্রি করতে হবে


[লিখেছেন jibaitunnoor, October 14, 2020 07:08 am ]

প্রশ্ন:

আমি আমার একটি জমি অপর ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করি এই শর্তে যে, পরবর্তী কয়েক বছর পর আমার নিকট যখন টাকা হবে তখন উক্ত জমি আবার আমার নিকট বিক্রয় করতে হবে। এই কথার উপর রাজী হয়ে সে আমার জমি ক্রয় করে। শরীয়তে এই ধরণের ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম কী? এবং দ্বিতীয় বার ক্রয় করার সময় কোন মূল্য আদায় করতে হবে? পূর্বে যে দামে বিক্রয় করা হয়েছিল সেই দামে না কি জমির বর্তমান মূল্যে? এবং ক্রেতার জন্য দ্বিতীয় বার বিক্রয় করা জরুরী কি না?

উত্তর:

প্রশ্নে বর্ণিত লেনদেনকে শরীয়তের পরিভাষায় بيع با لوفاء বলা হয়। আর শরীয়তে এ জাতীয় লেনদেন মূলত ফাসেদ। কিন্তু পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরাম বর্তমান যুগে একান্ত প্রয়োজন হলে উক্ত লেনদেন কে জায়েয বলেছেন। সুতরাং একান্ত জরুরত হলে প্রশ্নোল্লেখিত লেনদেন জায়েয হবে।

আর বিক্রেতা জমি ফিরিয়ে নেয়ার সময় পূর্বের ঐ মূল্যেই ফিরিয়ে দিবে যা দ্বারা সে জমিটি বিক্রয় করেছিল। কেননা, তাদের মাঝে যে লেনদেন হয়েছিল তাকে যদি পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরামের মতানুযায়ী ফাসেদ বলা হয়, তাহলে ফাসেদ লেনদেন বাতিল করার সময় ক্রেতাকে সে মূল্যই ফিরিয়ে দিতে হয়, যা দিয়ে সে পূর্বে ক্রয় করেছিল।

আর যদি কোন কোন ফকীহর মতানুযায়ী ঐ লেনদেন কে বন্ধক বা রেহেন বলা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে বন্ধকী বস্তু ফিরিয়ে দেয়ার সময় ঐ টাকাই ফেরৎ দিতে হয়, যে টাকার বিনিময়ে বস্তুটি বন্ধক রাখা হয়েছিল।
আর যদি অন্যান্য কতিপয় ফুকাহায়ে কিরামের মতানুযায়ী ঐ লেনদেনকে ইকালা তথা বিক্রয় চুক্তি রহিত করণ বলা হয় তাহলেও ইকালার নিয়মানুযায়ী পূর্বের মূল্যই ফেরৎ দেয়া আবশ্যক হবে।
উক্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে যে শর্তারোপ করা হয়েছিল এবং ক্রেতা কর্তৃক ঐ জমিটি পরবর্তীতে ফিরিয়ে দেয়ার যে ওয়াদা করেছিল শরীয়তের দৃষ্টিতে তা পূর্ণ করা আবশ্যক।

সূত্র:

আদ দুররুল মুখতার: ৭/৫৪৫, রদ্দুলমুহতার: ৭/৫৪৬, আল বাহরুর রায়েক: ৬/১৩, ফিকহুল বুয়ূ: ১/৫১৫
وفي جواهر الفتاوى ৩/৩৯৫: فقهاء كرام نے مروجہ رهن كے گناہ سے بچنے كے لئے بعض حيلوں كو جائز لكها ہے- اور وہ يہ ہيں بيع بالوفاء يعني راہن اپني زمين مرتہن كے پاس زباني طور پر د,گواہوں كے سامنے اس شرط پرفروخت كردے كہ جب ميں زمين كي قيمت آپ كو واپس كردونڱا تو آپ مجهے زمين واپس دے دينگے-