ঋণ গ্রহীতার ফ্ল্যাট বিনা ভাড়ায় ব্যবহার করা


[লিখেছেন jibaitunnoor, October 5, 2020 05:34 am ]

প্রশ্ন:

এক লোক আমার নিকট থেকে নয় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে তার একটি ফ্ল্যাট বাসা আমার নিকট এই মর্মে বন্ধক রাখে যে, আমি যখন তোমাকে টাকা ফেরত দিব তখন তুমি আমার ফ্ল্যাট আমাকে ফেরত দিবে, আর আমি টাকা দেয়া পর্যন্ত তা তুমি ব্যবহার করবে। এরপর আমি সেই ফ্ল্যাটে প্রায় ২ বৎসর যাবত থাকছি। আমার জানার বিষয় হল, উল্লেখিত চুক্তি সহীহ কি না? না হলে জায়েয পদ্ধতি কী? আর আমার দুই বৎসর থাকা জায়েয হয়েছে কি না? না হলে করণীয় কী?

উত্তর:

প্রশ্নের বর্র্ণনানুযায়ী ফ্ল্যাট বাড়ীটি ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তি আপনার নিকট বন্ধক হিসেবে রেখেছেন। আর বন্ধক গ্রহণকারীর জন্য বন্ধকী বস্তু দ্বারা কোনরূপ উপকৃত হওয়া হারাম। কাজেই বিগত দুই বছর যাবৎ আপনি ঐ বন্ধকী বাড়ীটি ব্যবহার করে হারাম কাজ করেছেন এবং এ ধরণের হারাম চুক্তি করাও আপনাদের জন্য হারাম হয়েছে। অবশ্য, শরীয়তের পরিভাষায় আপনাদের ঐ লেনদেনটি আর বন্ধকী লেনদেন হিসেবে অবশিষ্ট থাকেনি, বরং লেনদেনটি ইজারায়ে ফাসেদ তথা অকার্যকর ইজারায় রুপান্তরিত হয়েছে।

কাজেই, এ মুহূর্তে আপনার জন্য করণীয় হল, আপনার ব্যবহৃত ফ্ল্যাট বাসার দুই বছরের ভাড়া বাবদ যে টাকা আসে তা মালিককে পরিশোধ করা, কিন্তু ভাড়ার ক্ষেত্রে শরীয়ত মালিককে পূর্ণ অধিকার দিয়েছে যে, সে চাইলে ভাড়া বাড়াতেও পারে আবার কমাতেও পারে। আবার ইচ্ছা করলে পূর্ণ ভাড়া মাফও করে দিতে পারে। সেই হিসেবে ফ্ল্যাটের মালিক যেহেতু আলোচ্য ক্ষেত্রে পূর্বেই ভাড়ার দাবী ছেড়ে দিয়েছে তাই আপনাকে আর বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে হবে না।

আর পূর্বের হারাম চুক্তির গুনাহ থেকে অব্যহতি পেতে চাইলে এ মুহুর্তে আপনাদের করণীয় হল, পূর্বের লেনদন চুক্তিটি বাতিল করে নতুন করে শরয়ী পন্থায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া। তা এভাবে যে, ফ্ল্যাটের মালিক নয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিনা শর্তে আপনার নিকট ঐ ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দিবেন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের এ চুক্তির বাইরে পূর্বে কিংবা পরে আপনারা অন্য একটি বিষয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হবেন, আর তা হল, ঐ ব্যক্তি যেদিন ৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন সেদিন আপনি ঐ ফ্ল্যাটটি তার নিকট বিক্রি করে দিতে বাধ্য থাকবেন। এভাবে আপনি ফ্ল্যাটটির মালিক হয়ে যাবেন। অতপর: যেদিন আপনার সঙ্গী ৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে পারবেন ঐ দিন আপনি ফ্ল্যাটটি তার নিকট বিক্রি করে দিবেন। যদি চুক্তি অনুযায়ী আপনি তখন ফ্ল্যাটটি বিক্রি না করেন তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনি গুনাহগার হবেন।

সূত্র:

শরহুল মাজাল্লা: ১/৪১৫, ফাতাওয়া খানিয়া: ৩/৫৪৭, আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৪৮২, আল মুহীতুল বুরহানী: ৯/৩৭৭, শরহুল হামাবী: ২/৩৬, রদ্দুল মুহতার: ৫/১৪৬
في حاشية الطحطاوي ৪/২৩৬ المرتهن سكن الدار المرهونة بإذن الراهن يكره … والاحتياط في الاجتناب عنه لما فيه من شبهة الربا، ورد المحتار ৬/৬৩ رجل استقرض دراهم واسكن المقرض في داره فالواجب أجر المثل على المقرض وفي جامع الفصولين ২/২৩৭- وقال في مسئلة البيع بالوفاء قبل البيع عقدًا بلا شرط الوفاء فالعقد جائز ولاعبرة بالمواضعة السابقة،