আর্থিক জরিমানা আদায় করা বৈধ কি না?


[লিখেছেন jibaitunnoor, January 25, 2021 05:37 am ]

প্রশ্ন:

এমন কোন ক্ষেত্র আছে কি যেখানে কারো উপর আর্থিক জরিমানা ধার্য করা জায়েয আছে? বর্তমানে আর্থিক জরিমানা ছাড়া কোন কাজ সাধারণত পূর্ণ হয়না। সুতরাং আর্থিক জরিমানা ধার্য করার বিষয়টি পূন: বিবেচনা করা যায় কি না?

উত্তর:

ইসলামী শরীয়তে কারো উপর আর্থিক জরিমানা ধার্য করা জায়েয নেই। কারণ, এতে অত্যাচারী শাষকদের জন্য দূর্বল প্রজাদের ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করার রাস্তা উম্মোচিত হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম প্রশ্নে বর্ণিত প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য করে এর বিকল্প একটি কার্যকর পন্থা বাতলিয়েছেন।

তা হল, বাকীতে কোন লেনদেন করার সময় উভয় পক্ষ এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হবে যে, ঋণী ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময় ঋণ পরিশোধ না করে বা পরিশোধ করতে গড়িমসি করে তাহলে সে গরিব-মিসকিনদের স্বার্থে গঠিত কল্যান ফান্ডে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দান করতে বাধ্য থাকবে। এভাবে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে বর্ণিত পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকবে। এ সূরতটি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে। কারণ, এ টাকা সূদ হিসাবে গণ্য হবে না। কেননা, অপর পক্ষ তো এ টাকার মালিক হচ্ছে না, বরং মালিক হচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

বি. দ্র. উপরোল্লিখিত বক্তব্য মালেকী মাযহাবের নীতিমালা অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ, মালেকী মাযহাবের একটি স্বীকৃত নীতি হল, কেউ কোন বস্তুকে নিজের উপর অপরিহার্য করে নিলে আইনগত ভাবে তা বাস্তবায়িত করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। আর হানাফী মাযহাব অনুযায়ী যদিও সর্ব প্রকার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা আইনগত ভাবে আবশ্যক হয় না। তবে কোন কোন প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে আবশ্যক হয়ে যায়। তাই বর্তমান সময়ের উল্লেখিত প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য করে কতিপয় হক্কানী আলেম বর্ণিত পদ্ধতি অবলম্বন করার অবকাশ রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: রদ্দুল মুহতার: ৪/৬১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/১৬৭, জাদীদ ফিকহী মাবাহিছ: ২৫/২০৯, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ১২/২৭০